About Us | Contact Us |

উন্নয়ন নয়, পুঁজিবাদী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠাই ট্রাম্পের আসল উদ্যেশ্য

উন্নয়ন নয়, পুঁজিবাদী সাম্রাজ্য  প্রতিষ্ঠাই ট্রাম্পের আসল উদ্যেশ্য

ধরুন, আপনার এলাকাতে দুজন প্রতিবেশী আছেন- একজনের যশ ও অর্থ উভয়ই রয়েছে, আর একজন সাধারণ মধ্যবিত্ত- অপরজনের মতন অর্থকৌলীন্য তার নেই। এবারে হঠাৎ আপনার এলাকার সেই মধ্যবিত্ত ব্যক্তিটি লটারি পেলেন এবং আপনারা সবাই বুঝতে পারলেন- এই লটারি থেকে পাওয়া অর্থের পরিমাণ যা, তাতে এই সাধারণ মধ্যবিত্ত ব্যক্তি সেই প্রভাবশালী ব্যক্তিকে ছাপিয়ে যেতে পারেন এবং প্রভূত সুনাম ও ক্ষমতার অধিকারী হতে পারেন। এই ওঠা-পড়া বাজার অর্থনীতির যুগে খুবই স্বাভাবিক- অনেকটা সেই সাপ-লুডোর খেলার মত, কে কখন মই বেয়ে ওপরে উঠবে, কে কখন সাপের মুখে পড়ে নিচে নামবে, সেটা বোঝা বেশ শক্ত। কিন্তু হঠাৎ করে যদি সাপের মুখে পড়ে কারোর যশ-খ্যাতি কমে যায়, তাহলে সেটা তার পক্ষে গ্রহণ করা খুবই কঠিন- আর তখন তার করনীয় কি? সেই ব্যক্তি হঠাৎ করে আইন হাতে নিয়ে মধ্যবিত্ত ব্যক্তির প্রাপ্ত সম্পদ দখল করতে পারেননা- কারণ লটারিতে সেই মধ্যবিত্ত ব্যক্তির ব্যক্তিগত মালিকানা রয়েছে, তিনি তার প্রাপ্ত সম্পদ অন্য একজনকে বিনা কারণে বিলিয়ে দিতে পারেননা। তখন সেই প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে স্রেফ একটাই রাস্তা রয়েছে এই সম্পদ অধিকার করার- প্রভাবশালী ব্যক্তিটি যুক্তি-তর্কের তোয়াক্কা না করে মধ্যবিত্ত ব্যক্তিটি কোনো অসামাজিক কাজে জড়িত আছে এই নালিশ জানিয়ে এবং তার প্রভাব খাটিয়ে সেই ব্যক্তিকে হাজতের ঘানি টানাতে পারেন আর তার সমস্ত অর্থ নিজের আয়ত্তে আনতে পারেন। সুতরাং বলাই যায় যে ক্ষমতার বদান্যতায় একজন ব্যক্তি আরেকজনের কি সর্বনাশটাই করতে পারেন।

আপনারা নিশ্চয় আন্দাজ করতে পারছেন এই গল্পে বর্ণিত দুটি চরিত্র আসলে কে বা কারা। নতুন বছর শুরু হওয়ার পর দুটি দিনও কাটলোনা; যুদ্ধ বন্ধের কাণ্ডারি নিজে যুদ্ধ শুরু করে বিশ্বের শান্তি বিঘ্নিত করলেন- ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকা আক্রমণ করলো নিকোলাস মাদুরোর ভেনেজুয়েলাকে। কিন্তু কেন? এই নিয়ে নানা মুনির নানা মত। কিন্তু একটা কথা খুব পরিষ্কার যে ভেনেজুয়েলার বিশাল তৈলভান্ডারের দখল নেওয়ার জন্যই এই অতর্কিত আক্রমণ। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্টের গলায় অন্য সুর- তিনি মনে করেন যে দক্ষিণ আমেরিকার এই ভেনেজুয়েলা দেশটি আকণ্ঠ দুর্নীতিতে ডুবে রয়েছে (২০২৪ সালের Transparency International এর Corruption Perceptions Index Rank এ ভেনেজুয়েলার অবস্থান ১৮০ টি দেশের মধ্যে ১৭৮), ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর স্ত্রী মাদক ব্যবসার (যাকে তিনি মাদক সন্ত্রাস বলছেন) সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এবং সেই মাদক মার্কিন বাজারে ঢুকিয়ে আমেরিকার প্রভূত ক্ষতি সাধন করছেন আর এইসব বন্ধ করে ভেনেজুয়েলাকে অর্থনৈতিকভাবে চাঙ্গা করার উদ্দেশ্যে তাঁর এই আক্রমণ। এটা বললে খুব একটা অত্যুক্তি হবেনা যে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি গত কয়েক বছর ধরে পতনের মুখে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের সময় থেকেই এই অর্থনৈতিক সঙ্কট শুরু হয় এবং পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর আমলে এই সঙ্কট আরও ঘনীভূত হয়। কিন্তু প্রাকৃতিক সম্পদের দিক দিয়ে ভেনেজুয়েলা খুব ধনী একটি দেশ- US Energy Information Administration এর বিচারে এখানে মাটির নিচে প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল অশোধিত তেল (তরল সোনা) রয়েছে, যা সারা বিশ্বে বৃহত্তম। সারা বিশ্বের প্রায় ১৭ শতাংশ তেলের ভাণ্ডার রয়েছে এখানে। কিন্তু যথাযথ রক্ষনাবেক্ষণ আর বিনিয়োগের অভাবে তেলের উৎপাদন ক্রমশ বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। সাথে মারাত্মক দুর্নীতি একদিকে যেমন খাদ্যের সঙ্কট তৈরি করেছে অন্য দিকে বেকারত্ব, উৎপাদনশীলতা হ্রাস প্রভৃতি ব্যপক অর্থনৈতিক সমস্যা সৃষ্টি করেছে- যার ফলস্বরূপ দেশটির অর্থনীতিতে ক্রমে ধস নেমেছে। 

এবারে এত বড় তৈল খনি দখলের লোভ যে কোনো ধনী দেশের পক্ষে সংবরণ করা কঠিন কারণ এই খনি যদি কোনো দেশ দখল করতে পারে তাহলে শুধু আর্থিক দিক দিয়ে নয়, সারা পৃথিবীতে সেই দেশের প্রভাব প্রতিপত্তি অনেকটা বৃদ্ধি পাবে। আর তাই আমেরিকাসহ অনেক দেশের নজর গিয়ে পড়ে ভেনেজুয়েলার ওপর। আর তাই ওপরের গল্পে বর্ণিত সেই উচ্চবিত্ত চরিত্রটির মতন অনেকেই সেই লটারির দখল নিতে চায়। কিন্তু বামপন্থী মনোভাবে উদবুদ্ধ ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট কখনই আমেরিকার মতন পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের হাতে এই মুল্যবান ভাণ্ডার ছাড়তে রাজি হয়নি, বরং ভেনেজুয়েলার দোস্তি বেড়ে যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চরম শত্রু চিনের সঙ্গে- যার ফল আমরা আজ দেখতে পাচ্ছি; কোনো আন্তর্জাতিক নিয়মের তোয়াক্কা না করে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ভেনেজুয়েলা আক্রমণ করলেন এবং সেই দেশের প্রেসিডেন্টকে অযৌক্তিক কারণে বন্দি করলেন। শুধু তাই নয়, সাধারণ মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থলও তার আগ্রাসন থেকে মুক্তি পেলনা। কিন্তু কেন এই আক্রমণ- ট্রাম্পের কথা মেনে নিলে ভেনেজুয়েলার মাদক সন্ত্রাস বন্ধ করা তার মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু তাই যদি হয় তাহলে কিছুদিন আগে মেক্সিকোকে তিনি প্রায় এক দোষের ভাগিদার করলেন কিন্তু মেক্সিকোর ওপর শুধুমাত্র শুল্কের বোঝা চাপালেন আর ভেনেজুয়েলাকে আক্রমণ করে সেই দেশকে নিজের দখলে নিতে চাইলেন। তাহলে এটা থেকে মোটামুটি স্পষ্ট করে বলা যায় যে এখানে তৈল খনি দখলের রাজনীতি মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু এই রাজনীতি ছাড়াও একটা কারণ আছে যেটাতে খানিক পরে আসছি।

ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা আক্রমণের কারণ বুঝতে হলে আমাদের পিছিয়ে যেতে হবে কয়েক দশক। সাল ১৯৭১- যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের নেতৃত্বে আমেরিকাতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার স্থির করার ক্ষেত্রে যে স্বর্ণমান ব্যবস্থা ছিল তা উঠে যায় এবং স্থির বিনিময় হার পাকাপাকি ভাবে বিদায় নেয়। ইতিহাসে এই ঘটনা Nixon Shock বা নিক্সনের ধাক্কা নামে পরিচিত। কিন্তু মার্কিন অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার জন্য একটা ভিত্তির প্রয়োজন ছিল আর এই সময় আমেরিকা এক যুগান্তকারী নীতি ঘোষণা করলো- যা বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারের আধিপত্য শুধু বাড়ালোনা বরং আমেরিকার প্রভাব-প্রতিপত্তি আরও বৃদ্ধি করলো। কি করলো আমেরিকা? ১৯৭০ র দশকে যে তেল সঙ্কট হল, তারপর ওপেক গোষ্ঠীভুক্ত দেশ গুলি বিশেষত সৌদি আরবের সঙ্গে একটি চুক্তি করলো যে এখন থেকে তারা যে তেল বিক্রি করবে সমস্তটাই মার্কিন ডলারে করবে অর্থাৎ লেনদেনের মূল মাধ্যম হবে মার্কিন ডলার বিনিময়ে সেই দেশ আমেরিকার থেকে সামরিক সহায়তা পাবে। এতে করে লাভের লাভ হল আমেরিকার- এক দিকে যেমন মার্কিন ডলার শক্তিশালী হল, অন্যদিকে বিশ্বের দরবারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা ও প্রভাব অনেকাংশে বৃদ্ধি পেলো। কারণ বৈশ্বিক অর্থনীতির একটা মূল জ্বালানী হল খনিজ তেল- যার দৌড়াত্মেই ৭০ এর দশকে হয়েছিল স্থিতাবস্থা বা stagflation অর্থাৎ প্রচণ্ড মুদ্রাস্ফীতি সাথে আর্থিক মন্দা। মুদ্রাস্ফীতির কারণ ছিল ওপেক গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলোর তেল উৎপাদন কমানো, তেলের দাম বৃদ্ধি আর তজ্জনিত সমস্ত দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি আর সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস ফলস্বরূপ আর্থিক মন্দা। 

 কিন্তু সাম্প্রতিক বছর গুলিতে মার্কিন ডলারের এই আধিপত্য ক্রমে হ্রাস পেয়েছে, সেখানে জায়গা করছে ভারতীয় রুপি, চিনা ইউহান এবং রাশিয়ান রুবল। এখন বেশ কিছু দেশ এমন কি সৌদি আরব পর্যন্ত ডলারের পরিবর্তে এইসব মুদ্রাতে বাণিজ্য করছে। আবার ব্রিকস মুদ্রা নামে নতুন এক মুদ্রা আন্তর্জাতিক বাজারে আসতে চলেছে- যা ডলারের ক্ষমতা আরও হ্রাস করবে। আর এটি হল ট্রাম্প তথা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাথাব্যথার অন্যতম কারণ। আমেরিকার অন্যতম দুই শত্রুর প্রভাব যদি বিশ্বে বেড়ে যায় তবে তো সেটা শুধু আমেরিকার নয় তার বন্ধু দেশগুলির কাছেও সম্মানহানির কারণ। আর তাই ট্রাম্প প্রথম দিকে রাশিয়া এবং চিনকে পর্যুদস্ত করতে চাইলেন শুল্কযুদ্ধের মাধ্যমে কোনঠাসা করে কিন্তু তাতেও যখন অনেক দেশ ট্রাম্পকে এক ঘরে করে দিল; বিশেষ লাভ হলনা, তখন “Make America Great Again’’ সাথে ডলারের হৃত গৌরব ফেরানোর জন্য দ্বিতীয় পন্থা নিলেন- তা হল পুঁজিবাদের শেষ পর্যায়- সাম্রাজ্যবাদ। আর তার প্রথম শিকার হল ভেনেজুয়েলা- যেখানে রয়েছে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ তেলের ভাণ্ডার আবার সে ওপেক দেশভুক্ত। তাই যদি ছলে-বলে ট্রাম্প এই দেশটিকে দখল করতে পারেন তাহলে তিনি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন আবার ডলারকে শক্তিশালী করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একচেটিয়া কারবার বজায় রাখতে পারবেন। যদি ভেনেজুয়েলা চিনের সঙ্গে সখ্যতা বজায় রাখে তাহলে একদিকে চিন পাবে বিশাল তেলের ভাণ্ডার আবার আরেকদিকে তার রয়েছে বিরল খনিজ ভাণ্ডার- আমেরিকার পক্ষে চিনকে আটকানো সম্ভব হবেনা- এটিও এই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের একটা বড় কারণ। যদি দুর্নীতি প্রশমন ট্রাম্পের প্রধান উদ্দেশ্য হতো তবে, তার অধীনে থাকা দেশ ইরাক কিন্তু দুর্নীতি মুক্ত হতো। Transparency International এর ২০২৪ র তথ্য বলছে যে ইরাকের অবস্থান ১৮০ টি দেশের মধ্যে ১৪০- আবার ইরাক কিন্তু একটি তেল- সমৃদ্ধ অঞ্চল। সুতরাং ট্রাম্পের আসল উদ্দেশ্য পাঠকবর্গ আশা করি বুঝতে পারছেন। যদিও ট্রাম্প স্বীকারও করেছেন যে তিনি ভেনেজুয়েলার তৈলখনি গুলো উন্নত করার চেষ্টা করবেন, সেখানকার পরিকাঠামো জোরদার করবেন- যাতে শুধু মার্কিন অর্থনীতি না ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিও সমৃদ্ধশালী হবে বলে তার বিশ্বাস। কিন্তু এইভাবে অতর্কিতে কোনো দেশ আক্রমণ এবং তার সার্বভৌমত্ব ভঙ্গ করা কতটা যুক্তিসঙ্গত তা নিশ্চয় প্রশ্নের দাবি রাখে। আবার ট্রাম্প হুঁশিয়ারি জারি করেছেন যে তার পরবর্তী নিশানাতে রয়েছে কিউবা, মেক্সিকো এবং কলম্বিয়া। আর এখান থেকেই শুরু হচ্ছে তেল রাজনীতি ছাড়া যে আরেকটি কারণ বলেছি তার সুত্রপাত।

এই সুত্রপাতের কথা বলতে গেলেও আমাদের ফিরে যেতে হবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী আমেরিকা-সোভিয়েত ইউনিয়নের ঠাণ্ডা লড়াইয়ের সময়ে। যেটি শুরু হয়েছিল পৃথিবীতে কোন দৃষ্টিভঙ্গি রাজ করবে সেই নিয়ে- পুঁজিবাদী না সাম্যবাদী। আমেরিকার দিকে ছিল সমস্ত পুঁজিবাদী দেশ যেমন ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইটালি, কানাডা যাদের নিয়ে তৈরি হয় ন্যাটো গোষ্ঠী। আবার রাশিয়ার দিকে ছিল সমস্ত বামপন্থী মনোভাবের (সাম্যবাদী) দেশ যেমন পূর্ব জার্মানি, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, রোমানিয়া ইত্যাদি। ১৯৫০ এর দশকে আমেরিকা খানিকটা ভয় পেয়ে যায় যে সোভিয়েত ক্রমে সাম্যবাদ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিচ্ছে আর এই ভয় থেকে আমেরিকাতে যে সমস্ত বামপন্থী মনোভাবের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন, তাদের ওপর জোসেফ ম্যাকারথির নেতৃত্বে এক বিরাট দমন-পীড়ন নীতি চালু হয়- যা ইতিহাসে ম্যাকারথিবাদ নামে পরিচিত। যদিও এই নীতি সফল হয়নি, সুপ্রীম কোর্টের রায়ে এই নীতির ভিত্তি নষ্ট করে দেওয়া হয়। আবার এই ঠাণ্ডা লড়াই শেষ হয় সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মাধ্যমে- যা আমেরিকার কূটনৈতিক জয়। কিন্তু বর্তমানে আবার কিছু দেশ পুঁজিবাদের পরিবর্তে এই বামপন্থায় আগ্রহী হয়ে পড়েছে- যেমন, ভেনেজুয়েলা, মেক্সিকো, কলম্বিয়া। এই দেশগুলোর সঙ্গে আমেরিকার বদলে চিন ও রাশিয়ার সখ্যতা বাড়ছে- যা আমেরিকার পুঁজিবাদী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরাগভাজনের অন্যতম কারণ। আবার তার নিজের জায়গা আমেরিকাতেই সম্প্রতি বামপন্থা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে- যার বড় প্রমাণ নিউ ইয়র্কের মেয়র হিসেবে বামপন্থী নেতা জোহরান মামদানির জয়- যা ট্রাম্পের মাথাব্যথার আরও একটি কারণ। আর তাই এই সমস্ত বামপন্থী দেশগুলিকে আক্রমণ করে নিজের পুঁজিবাদী সাম্রাজ্য স্থাপন ও বিস্তার করে মার্কিন ভাবমূর্তি অক্ষত রাখার প্রচেষ্টা তার মধ্যে লক্ষণীয়।

একের পর এক দেশ দখল ও তৈল সাম্রাজ্যের মালিকানা যদি আমেরিকার হাতে যায় তাহলে ভবিষ্যতে সারা বিশ্বে তেলের দাম নিয়ন্ত্রন করবে আমেরিকা। প্রথমে হয়ত দাম কম রেখে বাজার দখল করবে কিন্তু পরবর্তীতে একচেটিয়া ভাবে সে দাম নিয়ন্ত্রন করতে পারে আর লাভের গুড় ভোগ করতে পারে। তাই সময় থাকতে রাষ্ট্রপুঞ্জের উচিত ট্রাম্পের এরম অযৌক্তিক কাজের রাশ টানা- নাহলে ভবিষ্যতে ট্রাম্পের পতন সুনিশ্চিত, কারণ সাম্রাজ্যবাদ কখনও দীর্ঘস্থায়ী হয়না। ইতিমধ্যে আমেরিকার অভ্যন্তরে যে পরিমান ক্ষোভ ও বিপ্লব শুরু হয়েছে- তা থেকে নিশ্চয়ই তা আন্দাজ করতে পারেন আপনারা।  

 

দীপ্তার্ঘ্য ভট্টাচার্য
দীপ্তার্ঘ্য ভট্টাচার্য

গবেষক, অর্থনীতি